জ্বীনেরা কি ভবিষ্যত জানে? জ্বীনেরা ভবিষ্যতের খবর দেয় কিভাবে?

অনেক পেশেন্ট কিছুদিন পর যা হবে বা নিকট ভবিষ্যতে কি হবে সেটা স্বপ্নে বুঝতে পারেন। কিংবা স্বপ্নে যেটা দেখে কিছুদিন পর সেটাই সত্যি হয়ে যায়। এটা জ্বীন আক্রান্ত হওয়ার একটি লক্ষণ। কিন্তু এই বিষয়টি জানার পর অনেকেই কমেন্টে জানতে চাচ্ছেন, জ্বীন কি ফিউচার বা ভবিষ্যত জানে? উক্ত বিষয়টিই স্পষ্ট করবো ইনশাআল্লাহ।

১. জ্বীন কি ভবিষ্যত জানে?

না, জ্বীনরা নিজেরা ভবিষ্যত জানে না। ভবিষ্যতের অদৃশ্য জ্ঞান (الغيب) কেবল আল্লাহরই কাছে রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

قُلْ لَا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ

“বলুন, আসমানসমূহে ও যমীনে যে-ই থাকুক না কেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ অদৃশ্য জানে না।”

(সূরা নামল 27:65)

২. তাহলে জ্বীন কিভাবে ভবিষ্যতের খবর বলে?

জ্বীনরা নিজেরা ভবিষ্যত জানে না। তবে তারা কিছু কৌশলে মানুষের কাছে ভবিষ্যতের খবরের মতো কিছু পৌছাতে পারে—

(ক) আসমান থেকে খবর চুরি করে

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের আগে জ্বীনরা আকাশে উঠে ফেরেশতাদের কথাবার্তা শুনত। ফেরেশতারা আল্লাহর ইলহাম বা কদরের নির্দেশ একে অপরকে বলার সময়, শয়তান জ্বীনরা তা কান পেতে শোনে, তারপর নিচে নেমে জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে বলে শত শত মিথ্যার সাথে। ভিকটিমকেও তা স্বপ্নে দেখায় বা অনুভব করায়। কিন্তু কুরআন নাযিলের পর থেকে এটি কঠোরভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এখন সংবাদ চুরি করতে গেলে এদের উপর উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু তবুও খুব চতুরতা ও দ্রুততার সাথে কিছু খবর শুনে চলে আসে।

(খ) গতি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে আন্দাজ করা

জ্বীনরা মানুষের তুলনায় দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং পৃথিবীর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় দ্রুত আসা-যাওয়া করতে পারে। এজন্য তারা হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা, যুদ্ধ বা খবর আগে জেনে মানুষের কাছে ভবিষ্যতের মত করে প্রকাশ করতে পারে।

তবে এটি সত্যিকার ভবিষ্যত জানা নয়, বরং দ্রুত তথ্য আনা।

জ্বীনেরা খবর চুরি করার দলিল।

. কুরআনে প্রমাণ:

জ্বীনরা নিজেরাই স্বীকার করেছে যে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পর আকাশে ওঠার পথ তাদের বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ فَمَنْ يَسْتَمِعِ الآنَ يَجِدْ لَهُ شِهَابًا رَّصَدًا

“আমরা (জ্বীনরা) আসমানে খবর চুরির জন্য বসে থাকতাম। এখন যে শোনার চেষ্টা করে, সে অগ্নিশিখা দ্বারা তাড়া খায়।”

(সূরা জ্বীন 72:9)

. হাদীসে প্রমাণ:

“ফেরেশতারা আসমানে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে শয়তান চুরি করে শোনে। তারপর তা কাহিন বা জ্যোতিষীর কানে পৌঁছে দেয়, আর সে তাতে শত শত মিথ্যা যোগ করে।”

(বুখারী 6213, মুসলিম 2228)

সারসংক্ষেপ:

জ্বীনেরা গায়েব বা ভবিষ্যত জানে না। খবর চুরি করে কবিরাজ, জ্যোতিষী ও ভিকটিমের কাছে বলে, অনুভব করায় এবং ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখায়।

শেয়ার করুন -

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

💬 📞
Scroll to Top