অনেক সময় বাসাবাড়িতে অজ্ঞাত কারণে অদ্ভুত সব জিনিসপত্র পাওয়া যায়—
তাবিজ, গিঁট, কড়ি, লাল-কালো সুতার ফাঁস, হাড়, পাথর, চিরুনি কিংবা কাগজে মোড়ানো অদ্ভুত লেখাযুক্ত বস্তু।
হিংসা, শত্রুতা কিংবা প্রতিশোধের কারণে অনেকে তান্ত্রিক–কবিরাজের কাছে গিয়ে এসব জাদুর উপকরণ তৈরি করায় এবং তা ঘরের কোনা, বালিশের ভেতর, জানালার কার্নিশ, ড্রেন বা ওয়াশরুমে লুকিয়ে রেখে যায়।
আবার অনেকেই নিজেরাই কবিরাজের কাছ থেকে তাবিজ-কবজ নিয়ে আসে—
যার মধ্যে জাদুর মন্ত্র, শয়তানি তাবিজ, এমনকি জ্বীনও বন্দী করা থাকে।
কখনো এসব দিয়েই কবিরাজ উল্টো সেই ব্যক্তির ওপর জাদু করে তাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।
তাই রুকইয়াহ শুরু করার পূর্বে এ ধরনের জিনিস পাওয়া গেলে তা নষ্ট করা জরুরি। নিচে জাদুর জিনিস নষ্ট করার সঠিক পদ্ধতি দেওয়া হলো—
১. রুকইয়াহ পানি প্রস্তুত করা
একটি পাত্রে পরিষ্কার পানি নিন। এরপর নিচের সিহরের আয়াতগুলো ৭ বার বা ৩ বার করে তিলাওয়াত করে পানির ওপর ফুঁ দিন:
সিহর নষ্টের আয়াতসমূহ
সূরা আরাফ: ১১৭–১২২
সূরা ইউনুস: ৮১–৮২
সূরা ত্বহা: ৬৮–৭০
সূরা ইখলাস
সূরা ফালাক,সূরা নাস
২. জাদুর বস্তুর গঠন ধ্বংস করা
জাদুর জিনিসপত্র/তাবিজ মূল অস্তিত্ব/গঠন থেকে ধ্বংস করুন। কগজ/কাপড়/সুতা/চুল জাতীয় হলে ছিঁড়ে/কেটে ফেলুন। গিঁট থাকলে ফেলুন, সম্ভব না হলে কেটে ফেলুন। চামচ/কাঠি/ধাতব কিছু দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে চিহ্নগুলো নষ্ট করুন। তাবিজ হলে এর ভেতরে যা আছে সেগুলো বের করুন। বের করা সম্ভব না হলে এর মুখ থেকে মোম সরিয়ে কিছু একটা দিয়ে খুঁচিয়ে যতটুকু সম্ভব ধ্বংস করুন বা ছিঁড়ে ফেলবেন।
৩. তাবিজ/জাদুর বস্তু পানিতে ভিজিয়ে রাখা
এরপর তাবিজ বা জাদুর জিনিসগুলো ১০-১৫ মিনিট ভালভাবে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এতেই জাদু নষ্ট হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এরপর মানুষ চলাচল করেনা এমন যায়গায় ফেলে দিন। অথবা মাটিতে পুঁতে ফেলুন। সম্ভব হলে তারপর পানি থেকে উঠিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলুন। এরপর ছাই ও তাবিজগুলো দূরে কোথাও ফেলে দিন বা মাটির নিচে পুঁতে দিন।
৪. বিশেষ সতর্কতা: তাবিজ “অ্যাক্টিভ” হয়ে যেতে পারে
অনেক সময় তাবিজ বা জাদুর উপকরণ স্পর্শ করলেই, ঘ্রাণ নিলেই বা আগুনে পুড়ালেই নষ্ট হওয়ার বদলে আরও সক্রিয় হয়ে যায়। তাই কখনোই খালি হাতে এদের স্পর্শ করা যাবে না। নাকের কাছে নেওয়া যাবে না। আগে পানি দিয়ে গলানো ছাড়া সরাসরি পোড়ানো যাবে না।
সন্দেহজনক কোন যাদর বস্তু বা তাবিজ থাকলে তা খোলা বা কেটে টুকরো করার পূর্বে হাতে গ্লাভস পড়ে বা পলিথিন পেঁচিয়ে সতর্কতার সাথে ধরতে হবে। অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে মুখে মাস্ক পড়ে নিতে পারেন। যাতে ঘ্রান বা ধোঁয়া নাকে না পৌঁছে।
৫. নোট (গুরুত্বপূর্ণ):
যদি সব আয়াত পড়া সম্ভব না হয়—
তাহলে অন্তত: ৩ বার সূরা ফালাক এবং ৩ বার সূরা নাস পাঠ করে পানি রেডি করুন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী এসব সন্দেহজনক জিনিস ও তাবিজ নষ্ট করুন।


