রুকইয়াহ’তে জ্বীন–শয়তানের বাধা ও ষড়যন্ত্র:

জ্বীন ও শয়তান মানুষের শুধু ক্ষতিই করে না; বরং সুস্থতার পথকেও জটিল ও বিভ্রান্তিকর করে তোলে। আল্লাহ প্রদত্ত রুকইয়াহ চিকিৎসার বিপরীতে তারা সমাজে তন্ত্র–মন্ত্র ও জাদুবিদ্যার প্রচলন ঘটিয়েছে, যাতে মানুষ শিফার (সুস্থতার) সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়। এর মাধ্যমে তারা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা যেমন বিনষ্ট করে, তেমনি মূল্যবান ঈমানকেও গুরুতর হুমকির মুখে ফেলে।

শয়তান কেবল মানুষকে আক্রান্ত করেই ক্ষান্ত হয় না; বরং আক্রান্ত হওয়ার পর যেন রোগী সঠিক চিকিৎসা ও সুস্থতার পথে অগ্রসর হতে না পারে—সেজন্যও সে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কারণ শয়তান কখনোই রোগীর শরীর থেকে বের হয়ে যেতে চায় না, আর চায় না তার শক্তি, প্রভাব, দুর্গ ও বসবাসের স্থান ধ্বংস হয়ে যাক।

রুকইয়াহ যেহেতু সরাসরি শয়তানি প্রভাব ও আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে, তাই রুকইয়াহ শুরু হলে অনেক রোগী বিভিন্ন মানসিক প্রতিবন্ধকতা ও অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়—যেমন ভয়, অলসতা, সন্দেহ, কিংবা চিকিৎসা বন্ধ করার প্রবণতা। এসব বিষয় কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং জ্বীন–শয়তানের সুপরিকল্পিত বাধা ও প্রতিরোধ কৌশলেরই অংশ।

অতএব, রুকইয়াহ শুরু করার পূর্বেই জ্বীন–শয়তানের এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। সুস্থতার জন্য দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা আবশ্যক। কারণ কেউ যদি পূর্ব থেকেই এই শয়তানি কৌশল সম্পর্কে সচেতন না থাকে, তবে সে হয় সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়, নয়তো মাঝপথে চিকিৎসা পরিত্যাগ করে অথবা সুস্থতার পথ দীর্ঘ ও জটিল হয়ে ওঠে।

রুকইয়াহ থেকে রোগীকে বিরত রাখা বা ফেরানোর জন্য জ্বীন শয়তানের প্রসিদ্ধ ষড়যন্ত্রসমূহ।

১. অজানা কারণেই রাকি’কে ভয় লাগা।

২. রুকইয়াহ’র প্রতি ভয় কাজ করা, মনে মনে চিন্তা আসা যে রুকইয়াহ করলে হয়তো অসুস্থ হয়ে যাবো।

৩. ইচ্ছা থাকলেও কোনো অজানা কারণেই সেলফ রুকইয়াহ করতে না পারা।

৪. মনে মনে চিন্তা আসা যে রুকইয়াহ করে কি হবে; কখনো সুস্থ হবো না।

৫. কখনও জ্বীন মনে মনে অনুভব করায় বা প্রকাশ্যে বলে যে, রুকইয়াহ করলে বা রাকির কাছে গেলে লাভ নেই; অমুক কবিরাজের কাছে যা।

৬. মনে মনে বা প্রকাশ্যে এরকম ভয় দেখানো যে রাকির কাছে গেলে তোকে মেরে ফেলবো।

৭. রুকইয়ার এপয়েন্টমেন্ট থাকলে আসার আগে হঠাৎ সাময়িক সুস্থ হয়ে যাওয়া।

৮. শিডিউল এর আগে নিজে বা পরিবারের কেউ প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে যাওয়া বা জ্বর উঠে যাওয়া।

৯. শিডিউল নেয়ার পর থেকে বা এর আগের রাতে বাচ্চারা অতিরিক্ত বিরক্ত করা , না ঘুমানু; যেন পেশেন্টেরও ঘুম না হয় আর দিনে রুকইয়াহর জন্য আসতে না পারে।

১০. সরাসরি রুকইয়াহর জন্য এপয়েটমেন্ট নিতে না পারা, বারবার ভুলে যাওয়া।

১১. রুকইয়াহ’র জন্য কোনভাবেই টাকা রাখতে না পারা, এপয়েটমেন্ট নেয়ার পর কোন না কোনভাবে টাকা খরচ হয়ে যাওয়া।‌

১২. মনে করা যে এইগুলো সাইক্রিয়াটিক বা মানসিক সমস্যা কিংবা সিজোফ্রেনিয়া।

১৩. দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টি হওয়া যে জ্বীন জাদুর কারণে কোনো রোগব্যাধি হতে পারে না।

১৪. অন্তরে এই ধারণা সৃষ্টি হওয়া যে এটা শারীরিক রোগ, এর চিকিৎসা কেবল ডাক্তাররা করতে সক্ষম।

শেয়ার করুন -

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

💬 📞
Scroll to Top