পেটে জাদু থাকা সত্ত্বেও কেন বমির মাধ্যমে বের হয় না?

অনেকে জিজ্ঞেস করেন— “রুকইয়াহ করার পর কারো কারো অটোমেটিক বমি হয়, আবার অনেকের হয় না কেন?” পেটে জাদু থাকা সত্বেও “সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার পরও কেন বমি হয় না?”

আসলে এর পিছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

  1. সিহরের ধরণ ভিন্ন হতে পারে

সব যাদুই পেটের ভেতরে থাকে না। অনেক সময় যাদু গায়ে ফুঁ দেওয়া, বাতাসে ছড়ানো, কবরস্থান বা মাটির নিচে রাখা, হাড় বা কাপড়ে বেঁধে রাখা ইত্যাদি হয়। তাই তা বমির মাধ্যমে বের হবে না।

  1. সিহর হজমতন্ত্রে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকে

যাদু খাওয়ানো বা পান করানো হলেও তা শরীরে শিকড় গেঁড়ে ফেলতে পারে। তখন শুধুমাত্র বমি নয়, বরং দীর্ঘ তিলাওয়াত, বারবার রুকইয়াহ, ওষুধি গাছ-পাতা (যেমন বরই পাতা, ভিনেগার, মধু) ব্যবহারের প্রয়োজন হয়।

  1. জ্বীনের বাধা দেওয়া

অনেক সময় জ্বীন রোগীর পেটের ভেতর থেকে বমি আসতে দেয় না। রোগী কষ্ট পায়, কিন্তু বমি বের হয় না। কারণ, জ্বীন যাদুকে আঁকড়ে ধরে রাখে।

  1. যাদুকরের দেওয়া গিঁট

যাদু করার পর যাদুকর কিছু গিঁট দিয়ে রাখে যেন বমি না হয় বা যাদু বমির মাধ্যমে বের না হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো পাকস্থলীর মুখে বা কড়িতে গিঁট, বুকে এবং গলায় বা স্বরতন্ত্রী ও খাদ্যনালীতে গিঁট। এই গিঁটগুলোর কারণে বমি বাধাগ্রস্ত হয় বা বমি হতে চাইলেও হয়না বা বের হয়না।

  1. আল্লাহর হিকমত (পরীক্ষা ও ধৈর্য)

আল্লাহ্‌ তাআলা কখনো রোগীকে পরীক্ষা করার জন্য চিকিৎসা দীর্ঘায়িত করেন। সবকিছু তৎক্ষণাৎ হয় না। তবে ধৈর্য্য ধরে দুআ, রুকইয়াহ নিয়মিত করতে থাকলে, আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখলে ইনশাআল্লাহ সুস্থতা আসবে।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-

وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ﴾ [الشعراء: 80]

“আমি অসুস্থ হলে তিনিই আমাকে শিফা দেন।”

উপসংহার:

সিহর সবসময় বমির মাধ্যমে বের হয় না।
কখনো প্রস্রাব-পায়খানা দিয়ে,
কখনো ঘাম দিয়ে,
কখনো শুধু রুকইয়াহ পড়া পানি পান করলেই যাদুর প্রভাব শেষ হয়ে যায়।

তাই বমি না হওয়া মানেই চিকিৎসা ব্যর্থ নয়।

করণীয়:
উক্বাদ ভাঙতে ও জ্বীনের শক্তি ধ্বংস করতে হিজামা করু।

নিয়মিত “গিঁট বা উক্বাদ নষ্টের” রুকইয়াহ করুন।

প্রতিদিন নিয়মিত বেশি বেশি পড়া পানি পান করুন।

সকালে খালি পেটে বিশেষ শরবত খান:
🥛 একগ্লাস রুকইয়াহ পড়া পানি + 🍯 ২ চামচ মধু + 🌹 ১ চামচ গোলাপজল + 🍋 ½ চামচ ভিনেগার + 🌿 ১ চিমটি কালোজিরা + 🧂 ১ চিমটি পিংক সল্ট বা লবণ— মিশিয়ে পান করুন।

সতর্কতা:
তবে দীর্ঘদিন এইগুলো ফলো করার প্রয়োজন হলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ রাকীর তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত। যেন অবস্থা জানিয়ে সঠিক পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

শেয়ার করুন -

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

💬 📞
Scroll to Top